Showing posts with label কাহিনীকাব্য. Show all posts
Showing posts with label কাহিনীকাব্য. Show all posts

বাঁশিওয়ালা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


ওগো বাঁশিওয়ালা,
   
বাজাও তোমার বাঁশি,
       
শুনি আমার নূতন নাম’-
এই বলে তোমাকে প্রথম চিঠি লিখেছি,
       
মনে আছে তো?
আমি তোমার বাংলাদেশের মেয়ে।
   
সৃষ্টিকর্তা পুরো সময় দেন নি
       
আমাকে মানুষ রে গড়তে,
       
রেখেছেন আধাআধি করে।
অন্তরে বাহিরে মিল হয় নি-
   
সেকালে আর আজকের কালে,
         
মিল হয় নি ব্যথায় আর বুদ্ধিতে,
       
মিল হয় নি শক্তিতে আর ইচ্ছায়।
আমাকে তুলে দেন নি যুগের পারানি নৌকোয়-
   
চলা আটক করে ফেলে রেখেছেন,
       
কালস্রোতের পারে বালুডাঙায়।

ক্যামেলিয়া | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


    নাম তার কমলা,
    
দেখেছি তার খাতার উপরে লেখা।
সে চলেছিল ট্রামে, তার ভাইকে নিয়ে কলেজের রাস্তায়।
   
আমি ছিলেম পিছনের বেঞ্চিতে।
    
মুখের এক পাশের নিটোল রেখাটি দেখা যায়,
আর ঘাড়ের উপর কোমল চুলগুলি খোঁপার নিচে।
   
কোলে তার ছিল বই আর খাতা।
    
যেখানে আমার নামবার সেখানে নামা হল না।
এখন থেকে সময়ের হিসাব করে বেরোই-
    
সে হিসাব আমার কাজের সঙ্গে ঠিকটি মেলে না,
   
প্রায় ঠিক মেলে ওদের বেরোবার সময়ের সঙ্গে,
       
প্রায়ই হয় দেখা।

দেবতার গ্রাস | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর



গ্রামে গ্রামে সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে
মৈত্র মহাশয় যাবেন সাগরসংগমে
তীর্থস্নান লাগি। সঙ্গীদল গেল জুটি
কত বালবৃদ্ধ নরনারী, নৌকা দুটি
প্রস্তুত হইল ঘাটে।।

                       
পুণ্য লোভাতুর
মোক্ষদা কহিল আসি, ‘হে দাদাঠাকুর,
আমি তব হব সাথি।বিধবা যুবতী,

নক্সী কাঁথার মাঠ - জসীম উদ্‌দীন

এক
বন্ধুর বাড়ি আমার বাড়ি মধ্যে ক্ষীর নদী,
উইড়া যাওয়ার সাধ ছিল, পাঙ্খা দেয় নাই বিধি |
--- রাখালী গান

এই এক গাঁও, ওই এক গাঁও --- মধ্যে ধু ধু মাঠ,
ধান কাউনের লিখন লিখি করছে নিতুই পাঠ |
এ-গাঁও যেন ফাঁকা ফাঁকা, হেথায় হোথায় গাছ ;
গেঁয়ো চাষীর ঘরগুলি সব দাঁড়ায় তারি পাছ |
ও-গাঁয় যেন জমাট বেঁধে বনের কাজল কায়া,
ঘরগুলিরে জড়িয়ে ধরে বাড়ায় বনের মায়া |

দুই বিঘা জমি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, "বুঝেছ উপেন, জমি লইব কিনে।'
কহিলাম আমি, "তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই।
চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো-জোর মরিবার মতো ঠাঁই।'
শুনি রাজা কহে, "বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখান
পেলে দুই বিঘে প্রস্থে দিঘে সমান হইবে টানা--
ওটা দিতে হবে।' কহিলাম তবে বক্ষে জুড়িয়া পাণি
সজল চক্ষে, "করুণ বক্ষে গরিবের ভিটেখানি।
সপ্ত পুরুষ যেথায় মানুষ সে মাটি সোনার বাড়া,
দৈন্যের দায়ে বেচিব সে মায়ে এমনি লক্ষ্মীছাড়া!'
আঁখি করি লাল রাজা ক্ষণকাল রহিল মৌনভাবে,
কহিলেন শেষে ক্রূর হাসি হেসে, "আচ্ছা, সে দেখা যাবে।'
_